| আই সি টি সেল |
|
তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ বাংলাদেশ গেজেট অতিরিক্ত সংখ্যা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রকাশিত সোমবার, এপ্রিল ৬, ২০০৯ বংলাদেশ জাতীয় সংসদ ঢাকা ৬ই এপ্রিল, ২০০৯/২৩ শে চৈত্র, ১৪১৫ সংসদ কর্তৃক গৃহীত নিম্নলিখিত আইনটি ৫ই এপ্রিল, ২০০৯ (২২ শে চৈত্র, ১৪১৫) তারিখে রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ করিয়াছে এবং এতদ্বারা এই আইনটি সর্বসাধারণের অবগতির জন্য প্রকাশ করা যাইতেছেঃ- ২০০৯ সনের ২০ নং আইন তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিতকরণের নিমিত্ত বিধান করিবার লক্ষ্যে প্রণীত আইন।
সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন-(১) এই আইন তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ নামে অভিহিত হইবে।
(২) এই আইনের- (ক) ধারা ৮, ২৪ এবং ২৫ ব্যতিত অন্যান্য ধারা ২০ অক্টোবর, ২০০৮ তারিকে কার্যকর হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে: এবং (খ) ৮,২৪ এবং ২৫ ধারা ১লা জুলাই, ২০০৯ তারিখ হইতে কার্যকর হইবে।
চ) ‘‘তথ্য’’ অর্থে কোন কর্তৃপক্ষের গঠন, কাঠামো ও দাপ্তরিক কর্মকান্ড সংক্রান্ত যে কোন স্মারক, বই, নকশা, মানচিত্র, চুক্তি, তথ্য-উপাত্ত, লগ বহি, আদেশ, বিজ্ঞপ্তি, দলিল, নমুনা, পত্র, প্রতিবেদন, হিসাব বিবরণী, প্রকল্প প্রস্তাব, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও, অংকিতচিত্র, ফিল্ম, ইলেকট্রনিক প্রক্রিয়ায় প্রস্ত্ততকৃত যে কোন ইনস্ট্রুমেন্ট, যান্ত্রিকবাবে পাঠযোগ্য দলিলাদি এবং ভৌতিক গঠন ও বৈশিষ্ট্য নির্বিশেষে অন্য যে কোন তথ্যসহ বস্ত্ত বা উহাদের প্রতিলিপিও ইহার অন্তুর্ভুক্ত হইবেঃ তবে শর্ত থাকে যে, দাপ্তরিক নোট সিট বা নোট সিটের প্রতিলিপি ইহার অন্তুর্ভূক্ত হইবে না; ৩। আইনের প্রাধান্য- প্রচলিত অন্য কোন আইনের- ক) তথ্য প্রদান সংক্রামত্ম বিধানাবলী এই আইনের বিধানাবলী দ্বারা ক্ষুন্ন হইবে না; এবং খ) তথ্য প্রদান বাধা সংক্রামত্ম বিধানাবলী এই আইনের বিধানাবলীর সহিত সাংঘর্ষিক হইলে, এই আইনের বিধানাবলী প্রাধান্য পাইবে।
তথ্য অধিকার, তথ্য সংরক্ষণ, প্রকাশ ও প্রাপ্তি
৪। তথ্য অধিকারঃ এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে প্রত্যেক নাগরিকের তথা লাভের অধিকার থাকিবে এবং কোন নাগরিকের অনুরোদেও প্রেক্ষিতে সংশিস্নষ্ট কর্তৃপক্ষ তাহাকে তথ্য সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে। ৫। তথ্য সংরক্ষণঃ (1) এই আইনের অধীন তথ্য অধিকার নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে প্রতেক কর্তৃপক্ষ উহার যাবতীয় তথ্যের ক্যাটালগ এবং ইনডেক্স প্রস্ত্তত করিয়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ করিবে। (2) প্রত্যেক কর্তৃপক্ষ যেই সকল তথ্য কম্পিউটারে সংরক্ষণের উপযুক্ত বলিয়া মনে করিবে সেই সকল তথ্য, যুক্তিসংগত সময়সীমার মধ্যে, কম্পিউটার সংরক্ষণ করিবে এবং তথ্য লাভের সুবিধার্থে সমগ্র দেশে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে উহার সংযোগ স্থাপন করিবে। (3) তথ্য কমিশন, প্রবিধান দ্বারা, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য অনুসরণীয় নির্দেশনা প্রদান করিবে এবং সকল কর্তৃপক্ষ উহা অনুসরন করিবে। ৬। তথ্য প্রকাশঃ (1) প্রত্যেক কর্তৃপক্ষ উহার গৃহীত সিদ্ধামত্ম, কার্যক্রম কিংবা সম্পাদিত বা প্রসত্মাবিত কর্মকান্ডের সকল তথ্য নাগরিকগণের নিকট সহজলভ্য হয়, এইরূপে সূচিবদ্ধ করিয়া প্রকাশ ও প্রচার করিবে। (2) উপ-ধারা (১) এর অধীন তথ্য প্রকাশ ও প্রচারের ক্ষেত্রে কোন কর্তৃপক্ষ কোন তথ্য গোপন করিতে বা উহার সহজলভ্যতাকে সঙ্কুচিত করিতে পারিবে না। (3) প্রত্যেক কর্তৃপক্ষ প্রতিবছর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করিবে যাহাতে নিম্নলিখিত তথ্যসমূহ অন্তুর্ভূক্ত থাকিবে যথাঃ (ক) কর্তৃপক্ষের সাংগঠনিক কাঠামোর বিবরণ, কার্যক্রম, কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের দাযিত্ব এবং সিদ্ধামত্ম গ্রহণ প্রক্রিয়ার বিবরণ বা পদ্ধতি। (খ) কর্তৃপক্ষের সকর নিয়ম-কানুন, আইন, অধ্যাদেশ, বিধিমালা, প্রবিধানামালা, প্রজ্ঞাপন, নির্দেশনা, ম্যানুয়াল, ইত্যাদিও তালিকাসহ উহার নিকট রক্ষিত তথ্যসমূহের শ্রেণী বিন্যাস: (গ) কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে কোন ব্যক্তি যে সকল শর্তে লাইসেন্স, পারমিট, অনুদান, বরাদ্দ, সম্মতি, অনুমোদন বা অন্য কোন প্রকার সুবিধা গ্রহণ করিতে পারিবেন উহার বিবরণ এবং উক্তরূপ শর্তের কারণে তাহার সহিত কোন প্রকার লেনদেন বা চুক্তি সম্পাদনের প্রয়োজন হইলে সেই সকল শর্তের বিবরণ; (ঘ) নাগরিকদের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করিবার জন্য প্রদত্ত সুবিধাদির বিবরন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার না, পদবী, ঠিকানা এবং প্রয়োজ্য ক্ষেত্রে, ফ্যাক্স নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা।
৭। কতিপয় তথ্য প্রকাশ বা প্রদান বাধ্যতামূলক নয়-এই আইনের অন্যান্য বিধানাবলীতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন কর্তৃপক্ষ কোন নাগরিককে নিম্নলিখিত তথ্যসমূহ প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবে না, যথাঃ- ক) কোন তথ্য প্রকাশের ফলে বাংলাদেশের নিরাপত্তা, অখন্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি হইতে পারে এনরম্নপ তথ্য; খ) পররাষ্ট্রনীতির কোন বিষয় যাহার দ্বারা বিদেশী রাষ্ট্রের অথবা আন্তুর্জাতিক কোন সংস্থা বা আঞ্চলিক কোন জোট বা সংগঠনের সহিত বিদ্যমান সম্পর্ক ক্ষুন্ন হইতে পারে এনরম্নপ তথ্য: গ) কোন বিদেশী সরকারের নিকট হইতে প্রাপ্ত কোন গোপনীয় তথ্য; ঘ) কোন তথ্য প্রকাশের ফলে কোন তৃতীয় পক্ষের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্থ হইতে পারে এইরুপ বাণিজ্যিক বা ব্যবাসায়িক অন্তর্নিহিত গোপনীয়তা বিষয়ক, কপিরাইট বা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ সম্পর্কিত তথ্য; ঙ) কোন তথ্য প্রকাশের ফলে কোন বিশেষ ব্যক্তি বা সংস্থাকে লাভবান বা ক্ষতিগ্রস্থ করিতে পারে এইরুপ নিম্নোক্ত তথ্য, যথাঃ (অ) আয়কর, শুল্ক, ভ্যাট ও আবগারী আইন, বাজেট বা করহার পরিবর্তন সংক্রান্ত কোন আগাম তথ্য; (আ) মুদ্রার বিনিময় ও সুদের হার পরিবর্তনজনিত কোন আগাম তথ্য; (ই) ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের পরিচালনা ও তদারকি সংক্রামত্ম কোন আগাম তথ্য; চ) কোন তথ্য প্রকাশের ফলে প্রচলিত আইনের প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত হইতে পারে বা অপরাধ বৃদ্ধি পাইতে পারে এনরূপ তথ্য; ছ) কোন তথ্য প্রকাশের ফলে জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হইতে পারে বা বিচরাধীন মামলার সুষ্ঠু বিচার কার্য ব্যাহত হইতে পারি এইরুপ তথ্য; জ) কোন তথ্য প্রকাশের ফলে জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হইতে পারে বা বিচারাধীন মামলার সুষ্ঠু বিচার কার্য ব্যাহত হইতে পারি এইরুপ তথ্য; ঝ) কোন তথ্য প্রকাশের ফলে কোন ব্যক্তির জীবন বা শারীরিক নিরাপত্তা বিপদাপন্ন হইতে পারি এইরুপ তথ্য; ঞ) আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তার জন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক গোপনে প্রদত্ত কোন তথ্য; ট) আদালতে বিচারাধীন কোন বিষয় এবং যাহা প্রকাশে আদালত বা ট্রাইব্যুনালে নিষেধাজ্ঞা রহিয়াছে অথবা যাহার প্রকাশ আদালত অবমাননার শামিল এইরুপ তথ্য; ঠ) তদন্তাধীন কোন বিষয় যাহার প্রকাশ তদন্ত কাজে বিঘ্ন ঘটাইতে পারে এইরুপ তথ্য; ড) কোন অপরাধের তদমত্ম প্রক্রিয়া এবং অপরাধীর গ্রেফতার ও শাসিত্মকে প্রভাবিত করিতে পারে এনরূপ তথ্য; ঢ) আইন অনুসারে কেবল একটি নির্দিষ্ট সমযের জন্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রহিয়াছে এইরুপ তথ্য; ণ) কৌশলগত ও বাণিজ্যিক কারণে গোপন রাখা বাঞ্ছনীয় এইরুপ কারিগরী বা বৈজ্ঞানিক গবেষণালব্ধ কোন তথ্য; ত) কোন ক্রয় কার্যক্রম সম্পূর্ণ হইবার পূর্বে বা উক্ত বিষযে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট ক্রয বা উহার কার্যক্রম সংক্রান্ত কোন তথ্য; থ) জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিকার হানির কারন হইতে পারে এইরুপ তথ্য; দ) কোন ব্যক্তির আইন দ্বারা সংক্রান্ত গোপনীয় তথ্য; ধ) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বা পরীক্ষায় প্রদত্ত নম্বর সম্পর্কিত আগাম তথ্য; ন) মন্ত্রিপরিষদ বা ক্ষেত্রমত, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থানীয় সার-সংক্ষেপসহ আনুষঙ্গিক দলিলাদি এবং উক্তরূপ বৈঠকের আলোচনা ও সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত কোন তথ্যঃ
৮। তথ্য প্রাপ্তির অনুরোধ-(১) কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন তথ্য প্রাপ্তির জন্য সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট তথ্য চাহিয়া লিখিতভাবে বা ইলেক্ট্রনিক মাধ্যম বা ই-মেইলে অনুরোধ করিতে পারিবেন। (২) উপ-ধারা (১) এ উলিস্নখিত অনুরোধে নিম্নলিখিত বিষয়সমূহের উল্লেখ থাকিতে হইবে, যথা- (অ) অনুরোধকারীর নাম, ঠিকানা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, ফ্যাক্স নম্বর এবং ই-মেইল ঠিকানা; (আ) যে তথ্যের জন্য অনুরোধ করা হইয়াছে উহার নির্ভূল এবং স্পষ্ট বর্ণনা; (ই) অনুরোধকৃত তথ্যের অবস্থান নির্ণয়ের সুবিধার্থে অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রাসঙ্গিক তথ্যাবলী; এবং ঈ) কোন পদ্ধতিতে তথ্য পাইতে আগ্রহী উহার বর্ণনা অর্থাৎ পরিদর্শন করা, অনুলিপি নেওয়া, নোট নেওয়া বা অন্য কোন অনুমোদিত পদ্ধতি। ৯। তথ্য প্রদন পদ্ধতি- (১) দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ধারা ৮ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন অনুরোধ প্রাপ্তির তারিখ হইতে অনধিক ২০(বিশ) কার্য দিবসের মধ্যে তথ্য সরবরাহ করিবেন।
দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা ১০। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-(১) এই আইন কার্যকর হইবার অব্যবহিত পূর্বে বিদ্যমান প্রত্যেক কর্তৃপক্ষ, এই আইন জাররি ৬০(ষাট) দিনের মধ্যে, এই আইনের বিধান অনুযায়ী তথ্য সরবরাহের নিমিত্ত উক্ত কর্তৃপক্ষের প্রত্যেক তথ্য প্রদান ইউনিটের জন্য একজন করিয়া দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করিবে। তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠা, ইত্যাদি ১১। তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠা-(১) এই আইন কার্যকর হইবার পর, অনধিক ৯০(নববই) দিনের মধ্যে এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে এবং উহার বিধান অনুসারে তথ্য কমিশন নামে একটি কমিশন প্রতিষ্ঠিত হইবে।
১২। তথ্য কমিশনের গঠন- (১) প্রধান তথ্য কমিশনার এবং অন্য ২(দুই) জন তথ্য কমিশনার সমন্বযে তথ্য কমিশন গঠিত হইবে, যাহাদের মধ্যে অন্যূন ১(এক) জন মহিলা হইবেন। (২) প্রধান তথ্য কমিশনার তথ্য কমিশনের প্রধান নির্বাহী হইবেন। (৩) তথ্য কমিশনের কোন পদে শূন্যতা বা উহা গঠনে ত্রম্নটি থাকিবার কারণে তথ্য কমিশনের কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না বা তৎসম্পর্কে কোন প্রশ্নও উত্থাপিত করা যাইবে না।
১৩। তথ্য কমিশনের ক্ষমতা ও কার্যাবলী - (১) কোন ব্যক্তি নিম্নলিখিত কারণে কোন অভিযোগ দায়ের করিলে তথ্য কমিশন, এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে উক্ত অভিযোগ গ্রহণ, উহার অনুসন্ধান এবং নিষ্পত্তি করিতে পারিবে, অর্থাৎ- (ক) কোন কর্তৃপক্ষকর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ না করা কিংবা তথ্যেও জন্য অনুরোধপত্র গ্রহণ না করা; (খ) কোন তথ্য চাহিদা প্রত্যাখ্যাত হইলে; (গ) তথ্যের জন্য অনুরোধ করিয়া, এই আইনে উলিস্নখিত নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে, কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে কোন জবাব বা তথ্য প্রাপ্ত না হইলে; (ঘ) কোন তথ্যেও এমন অংকের মূল্য দাবী করা হইলে, বা প্রদানে বাধ্য করা হইলে যাহা তাহার বিবেচনায় যৌক্তিক নয়; (ঙ) অনুরোধের প্রেক্ষিতে অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করা হইলে বা যে তথ্য প্রদান করা হইয়াছে উহা ভ্রান্ত ও বিভ্রান্তিকর বলিয়া মনে হইলে; (চ) এই আইনের অধীন তথ্যেও জন্য অনুরোধ জ্ঞাপন বা তথ্য প্রাপ্তি সম্পর্কিত অন্য যে কোন বিষয়
১৪। বাছাই কমিটিঃ (1) প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনার নিয়োগের জন্য সুপারিশ প্রদানের উদ্দেশ্যে নিম্নবর্ণিত ৫(পাঁচ) জন সদস্য সমন্বযে একটি বাছাই কমিটি গঠিত হইবে, যথাঃ (ক) প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত আপীল বিভাগের একজন বিচারপতি, যিনি উহার সভাপতিও হইবেন; (খ) মন্ত্রিপরিষদ সচিব, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার; (গ) সংসদ কার্যকর থাকাকালীন অবস্থায় স্পিকার কর্তৃক মনোনীত সরকারি দলের একজন এবং বিরোধী দলের একজন সংসদ সদস্য; (ঘ) সম্পাদকের যোগ্যতাসম্পন্ন সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত এমন অথবা গণমাধ্যমের সহিত সম্পর্কিত সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকগণের মধ্য হইতে সরকার কর্তৃক মনোনীত একজন প্রতিনিধি। ১৫। প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারগণের নিয়োগ, মেয়াদ, পদত্যাগ, ইত্যাদি- (1) রাষ্ট্রপতি, বাছাই কমিটির সুপারিশক্রমে, প্রধান তথ্য কমিশনার এবং অন্যান্য তথ্য কমিশনাগণকে নিয়োগ করিবেন। (2) ৬৭(সাতষট্টি) বৎসর অপেক্ষা বয়স্ক কোন ব্যক্তি প্রধান তথ্য কমিশনার বা তথ্য কমিশনার পদে নিয়োগ লাভের বা অধিষ্ঠিত থাকিবার যোগ্য হইবেন না। (3) প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারগণ নিয়োগ লাভের তারিখ হইতে ৫(পাঁচ) বৎসর কিংবা ৬৭(সাতষট্টি) বৎসর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত, যেইটি আগে ঘটে, স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন। (4) প্রধান তথ্য কমিশনার এবং তথ্য কমিশনারগণ একই পদে পুনরায় নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন না, তবে কোন তথ্য কমিশনার প্রধান তথ্য কমিশনার পদে নিয়োগ লাভের অযোগ্য হইবেন না। (5) আইন, বিচার, সাংবাদিকতা, শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, তথ্য, সমাজকর্ম, ব্যবস্থাপনা বা জনপ্রশাসনে ব্যাপক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার অধিকারব্যিক্তিগণের মধ্য হইতে প্রধান তথ্য কমিশনার এবং তথ্য কমিশনারগন, এই দারার বিধানাবলী সাপেক্ষে, নিযুক্ত হইবেন।
১৬। প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারগণের অপসারণঃ- (1) সুপ্রীম কোর্টেও একজন বিচারক যেরূপ কারণ ও পদ্ধতিতে অপসারিত হইতে পারেন, সেইরূপ কারণ ও পদ্ধতি ব্যতীত প্রধান তথ্য কমিশনার বা কোন তথ্য কমিশনারকে অপসারন করা যাইবে না। (2) উপ-ধারা (১) এর যাহা কিচুই থাকুক না কেন, রাষ্ট্রপতি প্রধান তথ্য কমিশনার বা অন্য কোন তথ্য কমিশনারকে তাহার পদ হইতে অপসারন করিতে পারিবেন, যদি তিনি- (ক) কোন উপযুক্ত আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত হন; বা (খ) পারিশ্রমিকের বিনিমযে স্বীয় দায়িত্ব বহির্ভুত অন্য কোন পদে নিয়োজিত হন; বা (গ) কোন উপযুক্ত আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতস্থ ঘোষিত হন; বা (ঘ) নৈতিক স্খলনজনিত কোন অপরাধে দোষী সাব্যস্থ হন।
১৭। তথ্য কমিশনারগণের পদমর্যাদি, পারিশ্রমিক ও সুবিধাদি- প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারগণের পদমর্যাদা, পারিশ্রমিক, ভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধাদি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে। ১৮। তথ্য কমিশনের সভা-(১) এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, তথ্য কমিশন উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে। (2) প্রধান তথ্য কমিশনার তখ্য কমিশনের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে তথ্য কমিশনারগনের মধ্যে যিনি তথ্য কমিশনার হিসাবে জৈষ্ঠ্যতম তিনি সবায় সভাপতিত্ব করিবেন। (3) প্রধান তথ্য কমিশনার এবং তথ্য কমিশনাগণের মধ্যে যে কোন ১(এক) জনের উপস্থিতিতে তথ্য কমিশনের সভার কোরাম গঠিত হইবে। (4) তথ্য কমিশনের সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রধান তথ্য কমিশনার এবং অন্যান্য তথ্য কমিশনারগণের একটি করিয়া ভোট তাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের অধিকার থাকিবে। তথ্য কমিশনের আর্থিক বিষয়াদি ১৯। তথ্য কমিশন তহবিলঃ- (1) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে তথ্য কমিশন তহবিল নামে একটি তহবিল গঠিত হইবে। (2) তথ্য কমিশন তহবিল এর পরিচালনা ও প্রশাসন, এই ধারা এবং বিধির বিধান সাপেক্ষে, তথ্য কমিশনের উপর ন্যস্ত থাকিবে। (3) তথ্য কমিশন তহবিল হইতে প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারগনের এবং সচিব ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদেও বেতন, ভাতা ও চাকুরীর শর্তাবলী অনুসারে প্রদেয় অর্থ প্রদান করা হইবে এবং তথ্য কমিশনের প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করা হইবে। (4) তথ্য কমিশন তহবিলে নিম্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে, যথাঃ- (ক) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত বাৎসরিক অনুদান; (খ) সরকারের সম্মতিক্রমে কোন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান।
২০। বাজেট- তথ্য কমিশন প্রতি বৎসর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরবর্তী অর্থ বৎসরের বার্ষিক বাজেট বিবরণসিরকার কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট ফরমে অনুমোদনের জন্য সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থ- বৎসরে সরকারের নিকট হইতে তথ্য কমিশনের কি পরি পরিমাণ অর্থেও প্রয়োজন হইবে উহার উলেস্নখ থাকিবে। ২১। তথ্য কমিনের আর্থিক স্বাধীনতা- (১) সরকার প্রতি অর্থ-বৎসরে তথ্য কমিশনের ব্যয়ের জন্য, উহার চাহিদা বিবেচনায, উহার অনুকহলে নির্দিষ্টকৃত অর্থ বরাদ্দ করিবে এবং অনুমোদিত ও নির্ধারিত খাতে উক্ত বরাদ্দকৃত অর্থ হইতে ব্যয় করিবার ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুদোন গ্রহণ করা তথ্য কমিশনের জন্য আবশ্যক হইবে না। (২) এই দারার বিধান দ্বারা গুপ্রজাতন্ত্রী বাংরাদেশের সংবিধানের ১২৮ অনুচ্চেদে প্রদত্ত মহাহিসাব নিরীক্ষকেরর অধিকার ক্ষুন্ন করা হইয়াছে বলিয়া ব্যাখ্যা করা যাইবে না। ২২। হিসাব রক্ষণ ও নিরীক্ষাঃ (1) তথ্য কমিশন যথাযথভাবে উহার হিসাব রক্ষণ করিবে এবং হিসারেব বার্ষিক বিবরণী প্রস্ত্তত করিবে। (2) বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহাহিসাব নিরীক্ষক নামে অভিহিত, প্রতি বৎসর তথ্য কমিশনের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা রিপোর্টেও একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও তথ্য কমিশনেরর নিকট পেশ করিবেন। তথ্য কমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারী ২৩। তথ্য কমিশনের সচিব এবং অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীঃ (1) তথ্য কমিশনের একজন সচিব থাকিবেন। (2) এই আইনের অধীন তথ্য কমিশন উহার কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে সাংগঠনিক কাঠামো নির্ধারণপূর্বক প্রয়োজনীয় সংখ্যক অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পরিবে। (3) সচিব এবং অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও চাকুররি শর্তাদি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে। (4) সরকার, তথ্য কমিশনের অনুরোধক্রমে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে কমিশনে প্রেষণে নিয়োগ করিতে পারিবে।
আপীল, অভিযোগ, ইত্যাদি ২৪। আপীল নিষ্পত্তি, ইত্যাদি- (1) কোন ব্যক্তি ধারা ৯ এর উপ-ধারা (১), (২) বা (৪) এ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তথ্য লাভে ব্যর্থ হইলে কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কোন সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হইলে উক্ত সময়সীমা অতিক্রান্ত হইবার, বা ক্ষেত্রমত, সিদ্ধান্ত লাভ করিবার পরবর্তী ৩০(ত্রিশ) দিনের মধ্যে আপীল কর্তৃপক্ষের নিকট আপীল করিতে পরিবেন। (2) আপীল কর্তৃপক্ষ যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, আপীলকারী যুক্তিসংগত কারণে উপ-ধারা ৯১) এ নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আপীল দায়ের করিতে পারেন নাই, তাহা হইলে তিনি উক্ত সময়সীমা অতিবাহিত হওযার পরও আপীল আবেদন গ্রহণ করিতে পরিবেন। (3) আপীল কর্তৃক উপ-ধারা (১) বা (২) এর অধীন আপীল আবেদন প্রাপ্তির পরবর্তী ১৫(পনের) দিনের মধ্যে (ক) আপীল আবেদনকারীকে অনুরোধকৃত তথ্য সরবারহের জন্য সংশিস্নষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করিবেন; অথবা (খ) তদ্বিবেচনায় গ্রহণযোগ্য না হইলে আপীল আবেদনটি খারিজ করিযা দিবেন।
২৫। অভিযোগ দায়ের, নিষ্পত্তি ইত্যাদিঃ- (1) কোন ব্যক্তি নিম্নলিখিত কারনে তথ্য কমিশনের অভিযোগ দায়ের করিতে পরিবে, যথাঃ- (K) ধারা ১৩ এর উপ-ধারা ৯১) এ উলিস্নখিত কারণে তথ্য প্রাপ্ত না হইলে; (L) ধারা ২৪ এর অধীন প্রদত্ত আপীলের সিদ্ধামেত্ম সংক্ষুব্ধ হইলে; (M) ধারা ২৪ এর উলিস্নখিত সময়সীমার মধ্যে তথ্য প্রাপ্তি বা ক্ষেত্রমত, তথ্য প্রদান সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রাপ্ত না হইলে।
২৬। প্রতিনিধিত্বঃ- কোন অভিযোগের পক্ষমূহ তথ্য কমিশনের সামেন ব্যক্তিগতভাবে বা আইনজীবীর মাধ্যমে তাহাদের বক্তব্য উপস্থাপন করিতে পারিবেন।
২৭। জরিমানা, ইত্যাদিঃ- (১) কোন অভিযোগ নিষ্পত্তির সূত্রে কিংবা অন্য কোনভাবে তথ্য কমিশনের যদি এই মর্মে বিশ্বাস করিবার কারণ তাকে যে, কোন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা- (ক) কোন যুক্তিগ্রাহ্য কারন ছাড়াই তথ্য প্রাপ্তির কোন অনুরোধ বা আপীল গ্রহণ করিতে অস্বীকার করিয়াছেন; (খ) এই আইন দ্বারা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অনুরোধাকরীকে তথ্য প্রদান করিতে কিংবা এই বিষযে সিদ্ধামত্ম প্রদান করিতে ব্যর্থ হইয়াছেন; (গ) অসদুদ্দেশ্যে তথ্য প্রাপ্তির কোন অনুরোধ বা আপীল প্রত্যাখ্যান করিয়াছেন; (ঘ) যে তথ্য প্রাপ্তির অনুরোধ করা হইয়াছিল তাহা প্রদান না করিয়া ভহল, অসম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর বা বিকৃত তথ্য প্রদান করিয়াছেন; (ঙ) কোন তথ্য প্রাপ্তির পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করিয়াছেন।- হাতা হইলে তথ্য কমিশন, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উক্তরূপ কার্যের তারিখ হইতে তথ্য সরবরাহের তারিখ পর্যমত্ম প্রতি দিনের জন্য ৫০(পঞ্চাশ) টাকা হারে জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে, এবং এনরূপ জরিমানা কোনক্রমেই ৫০০০(পাঁচ হাজার) টাকার অধিক হইবে না।
২৮। Limitation ACT, 1908 এর প্রয়োগঃ- এই আইনের অধীন আপীল বা অভিযোগ দায়েরের ক্ষেত্রে Limitation ACT, 1908 এর বিধানাবলী, এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, যতদূর সম্ভব, প্রয়োজন্য হইবে।
২৯& মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতাঃ- এই আইনের অধীন কৃত বা কৃত বলিয়া গণ্য কোন কার্য, গৃহীত কোন ব্যবস্থা, প্রদত্ত কোন আদেশ বা নির্দেশের বৈধতা সম্পর্কে, এই আইনে উলিস্নখিত আপীল কর্তৃপক্ষের নিকট আপীল বা,ক্ষেত্রমত, তথ্য কমিশনের নিকট অভিযোগ দায়ের ব্যতীত, কোন আদালতে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না। অষ্টম অধ্যায় বিবিধ ৩০। তথ্য কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদনঃ- (১) প্রতি বৎসরের ৩১ মার্চ এর মধ্যে তথ্য কমিশন উহার পুর্ববর্তী বৎসরের কার্যাবলী সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করিবে।
৩১। সরল বিশ্বাসে কতৃ কাজকর্ম রক্ষণঃ-এই আইন বা তদধীন প্রনীত বিধি বা প্রবিধানের অধীন সরল বিশ্বাসে তথ্য প্রকাশ করা হইয়াছে বা করিবার উদ্দেশ্য ছিল বলিয়া বিবেচিত, কোন কার্যের জন্য কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্থ হইলে তিনি তথ্য কমিশন, প্রধান তথ্য কমিশনার, তথ্য কমিশনারগণ বা তথ্য কমিশনের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী, বা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা অন্য কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন আইনগত কার্যধারা রুজু করা যাইবে না।
৩২। কতিপয় সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই আইন প্রযোজ্য নহেঃ- (1) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, তফসিলে উলিস্নখিত রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কার্যে নিয়োজিত সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই আইন প্রয়োজ্য হইবে না। (2) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উক্ত সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কোন তথ্য দুর্নীতি বা মানবাধিকার লংঘনের ঘঁনার সহিত জড়িত থাকিলে উক্ত ক্ষেত্রে এই ধারা প্রযোজ্য হইবে না । (3) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত তথ্য প্রাপ্তির জন্য কোন অনুরোধ প্রাপ্ত হইলে সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান, তথ্য কমিশনের অনুমোদন গ্রহণ করিয়া, অনুরোধ প্রাপ্তির ৩০(ত্রিশ) দিনের মধ্যে অনুরোধকারীকে উক্ত তথ্য প্রদান করিবে । (4) তফসিলে উলিস্নখিত প্রতিষ্ঠানসমূহের সংখ্যার হ্রাস বা বৃদ্ধির প্রয়োজনে সরকার তথ্য কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে, সময সময়, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উক্ত তফসিল সংশোধন করিতে পারিবে।
৩৩। বিধি প্রণয়ন ক্ষমতাঃ এই আইনের উদ্দেশ্য পুরণকল্পে সরকার, তথ্য কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে এবং সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
৩৪। প্রবিধান প্রণয়ন ক্ষমতাঃ এই আইনের উদ্দেশ্যে পুরণকল্পে তথ্য কমিশন, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে এবং সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
৩৫। অষ্পষ্টতা দুরীকরনঃ এই আইনের কোন বিধান কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোন অষ্পষ্টতা দেখা দিলেও সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের বিধানাবলীর সহিত সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, উক্তরূপ অস্পষ্টতা অপসারন করিতে পরিবে।
৩৬। মূল পাঠ এবং ইংরেজি পাঠঃ এই আইনের মূল পাঠ বাংলাতে হইবে এবং ইংরেজিতে অনুদিত উহার একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ থাকিবেঃ- তবে শর্ত থাকে যে, বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে। ৩৭। রহিতকরণ ও হেফাজতঃ (১) এতদ্দ্বারা তথ্য অধিকার অধ্যাদেশ ২০০৮, (২০০৮ সনের ৫০ নং অধ্যাদেশ) রহিত করা হইল। (২)উক্তরূপ রহিতকরন সত্বেও রহিতকৃত অধ্যাদেশ এর অর্ধকৃত কোন কার্য বা গৃহীত কোন ব্যবস্থা এই আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কার্যে নিয়োজিত সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানসমূহঃ
(1) জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দ সংস্থা (এনএসআই) (2) ডাইরেক্টরেট জেনারেল ফোর্সেস ইনটেলিজেন্স (ডিজিএফআই) (3) প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা ইউনিটসমূহ (4) ক্রিমিনাল ইনভেন্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি), বাংলাদেশ পুলিশ। (5) স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) (6) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের গোয়েন্দ সেল (7) স্পেলার ব্রাঞ্চ, বাংলাদেশ পুলিশ (8) র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন(রাব), এর গোয়েন্দা সেল।
|